Wednesday, February 12, 2025

রাজা আলী

                         


পিতা: সহিদুল ইসলাম 

গ্রাম: রাজাপুর 

শিক্ষা: বি.এ (অনার্স, বাংলা) এবং
          এম.এ (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)

শিক্ষক মইনুল হোসেন

               

পিতা: আকবার আলি

শিক্ষা: বি.এ. 

বাসস্থান: রাজাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ

লেখক ইসলামি ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক খবরাখবর বিষয়ে আগ্রহী।

মাওলানা কবির আলি তরফদার




পিতা: অসের আলী তরফদার 

গ্রাম: উত্তর চাতরা

শিক্ষা: আল মুস্তাফা(সাঃ) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স বিভাগের ফিক ও মায়ারিফ বিষয়ে অধ্যায়নরত। কুম, ইরান।

আগ্রহ: লেখালিখি এবং অনুসন্ধানী পড়াশোনা

মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

               

পিতা: মো: মোক্তার মন্ডল

শিক্ষা: এম.এ (ইংরেজি)-১ম শ্রেণী (রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা)

বাসস্থান: সন্নিয়া, বাদুড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ


Sunday, January 19, 2025

ইমাম মাহ্দী (আ:ফা:)-এর সাক্ষাৎ || (ইংরেজি থেকে অনুবাদ) || অনুবাদক: মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

সর্বশক্তিমান আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাদের প্রিয় জীবিত ইমাম ইমাম মাহদী (আ.ফা.) কে এমন অনেক বিশেষ অনুগ্রহে আশীর্বাদ করেছেন যা তিনি অন্য কাউকে দেননি। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, ইমাম মাহদী (আ.ফা.) কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাদের প্রিয় ইমামকে কতটা ভালোবাসেন।
১৫ই শাবান ইমাম (আ.) এর জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের অবশ্যই আমাদের বন্ধু ও সঙ্গীদের শুভেচ্ছা জানাতে হবে। আমাদের অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দোয়া করতে হবে ইমাম হোসাইন (আ.)- এর তরুণ সঙ্গী জানবে কাসিম (আ.), আওন (আ.) এবং মুহাম্মদ (আ.)-এর মাধ্যমে এবং আমাদের অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে প্রার্থনা করতে হবে যে, ইমাম মাহদী (আ.) এর ঘনিষ্ঠ সহচরগণ দের সাথে যেন তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আমাদের ইমাম (আ.) কে অনেক অনুগ্রহ দান করেছেন। এই অনুগ্রহের মধ্যে একটি হল ইমাম মাহদী (আ.) কে 'গাউস' উপাধি দেওয়া হয়েছে। 'গাউস' মানে যিনি সাহায্য করেন, সমস্যা সমাধান করেন এবং অসুবিধা দূর করেন, বিশেষ করে যারা ভ্রমণের সময় তাদের সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
ঐতিহ্যের বইয়ে আমরা এরকম বেশ কিছু ঘটনা দেখতে পাই। আমরা দেখতে পাই যে ইমাম মাহদী (আ.) এই ধরনের লোকদের তাদের পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছেন এবং তাদের বিচ্ছিন্ন সঙ্গীদের সাথে পুনরায় মিলিত করেছেন। তিনি তাদের সম্ভাব্য সব উপায়ে সাহায্য করেছেন।
এটি এমন এক ব্যক্তির ঘটনা যার পুরো পরিবারই আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। তারা তাদের বিশ্বাসে খুবই অনমনীয় ছিল এবং শিয়াদের কাফের বলে অভিহিত করত। তারা শিয়াদেরকে অপবিত্র (নাজিস) মনে করত এবং কোনভাবেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করত না।

একবার এক শিয়া এই আহলে সুন্নাহ পরিবারের কাছে কাজের জন্য আসে। এই দরিদ্র শিয়া অনেক সমস্যা ও অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় ছিল না। কোনো উপায় না থাকায় তিনি এই পরিবারে কাজ নেন। এই শিয়া অসহায়ত্বের বশবর্তী হয়ে তাকাওয়াহ (ভয়ের কারণে নিজের ধর্ম বা বিশ্বাসকে গোপন করা, কিন্তু অন্তরে, ব্যক্তিকে অবশ্যই সেই ধর্মে বিশ্বাস করতে হবে যা সে লুকিয়ে রেখেছে) এবং তার শিয়া বিশ্বাস প্রকাশ করেনি। কিন্তু সেসব পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকাটা তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। যখন তিনি অন্য শিয়াদের সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি তার কাছে তার অসুবিধা বর্ণনা করতেন। সে তার ধর্ম সেভাবে পালন করতে পারেনি যেভাবে সে চেয়েছিল এবং ধরা পড়ার ভয়ে ক্রমাগত বসবাস করতে থাকে।
একবার এই শিয়া সেই পরিবারের একজন যুবক, সুদর্শন ব্যক্তিকে শিয়াদের মতো নামাজ পড়তে দেখেছিল। এমন কট্টর সুন্নি পরিবারে একজন যুবককে শিয়াদের মতো নামাজ পড়তে দেখে তিনি খুব অবাক হয়েছিলেন, তাও প্রকাশ্যে, কোনো ভয় ছাড়াই। ধীরে ধীরে এই শিয়া নিজেকে এই যুবকের দিকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। তিনি এই যুবক কে পছন্দ করতে শুরু করেন। সে তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে তার জন্য প্রার্থনা করল। কিন্তু তিনি এত খোলাখুলি ভাবে শিয়া মতবাদ কিভাবে পালন করতে পারলেন তা জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাননি। সেই যুবক সম্পর্কে তার অনেক প্রশ্ন ছিল:
এই যুবক শিয়া হলে এই লোকেরা তাকে আটকায় না কেন? তিনি শিয়া হলে কট্টর সুন্নিদের মধ্যে এত খোলামেলাভাবে তার বিশ্বাসের চর্চা করছেন কীভাবে? কেন সে তাদের ভয় পায় না? 

এসব প্রশ্নের কোনো জবাব তার কাছে ছিল না। একদিন তিনি একা থাকা অবস্থায় যুবকের সাথে দেখা করার সুযোগ পান। কিভাবে সুযোগ পেলেন বুঝতে পারছেন না?? হয়তো ইমাম-ই-জামানা (আ.ফা.) তাঁর জন্য এই বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন।
শিয়া যখন যুবকের সাথে একা ছিল, তখন তিনি তার চারপাশে তাকান এবং যখন তিনি নিশ্চিত হন যে সেখানে আর কেউ নেই, তখন তিনি যুবক কে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু, তোমাকে আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে। আপনি আপনার পরিবারের অন্যদের মতো নামাজ পড়েন না কেন? আপনার নামাজ আপনার চারপাশের অন্যদের থেকে আলাদা কেন?

‘হ্যাঁ, এটা ঠিক। আমি আমার নামাজ অন্যভাবে পড়ি।‘ ‘আপনি কি সুন্নি?’ ‘অবশ্যই না!’ ‘আপনি সুন্নি নন?!’ ‘আমি তোমাকে বলেছি, আমি সুন্নি নই।‘
বেচারা শিয়া খুব সাবধানে জিজ্ঞেস করল: ‘তাহলে তুমি কি শিয়া?’ ‘হ্যাঁ আমি একজন শিয়া। আর আমি আমার বিশ্বাসে অটল। এত অবাক লাগছে কেন?’
“আপনার পুরো পরিবার সুন্নি। এই এলাকায় একটিও শিয়া নেই এবং এখানে সবাই শিয়াদের বিরুদ্ধে। এই কঠোর পরিবেশে, আমি আপনাকে শিয়াদের মতো খোলামেলা নামাজ পড়তে দেখে অবাক হয়েছি।
আপনি ঠিক বলেছেন। এর পিছনে একটি দীর্ঘ গল্প রয়েছে:
আপনি যদি এটি উপযুক্ত মনে করেন, দয়া করে আমাকে এই গল্পটি বর্ণনা করুন। আসলে আমিও একজন শিয়া। কিন্তু আপনার সুন্নি পরিবারের ভয়ে আমি আমার প্রকৃত বিশ্বাস কারো কাছে প্রকাশ করিনি এবং আমি তাকাওয়া পালন করি। জীবিকার তাগিদে আমি এসব করতে বাধ্য হচ্ছি।
আমার গল্পটি এরকম: আমার বয়স যখন মাত্র কয়েক মাস, তখন একজন অত্যন্ত দরিদ্র মহিলা আমাদের বাড়িতে কাজের সন্ধানে আসেন। সে এতটাই দরিদ্র ছিল যে আমার পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি করুণা করেছিল এবং তাকে আমাদের বাড়িতে রেখেছিল। তাকে আমাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তিনি আমার নার্স হয়েছিলেন। তিনি শিয়া ছিলেন। তিনি তার বিশ্বাস গোপন করেননি, তবে শিয়াদের মতো নামাজ পড়ে এবং তাদের বিশ্বাস অনুস্মরণ করে প্রকাশ্যে এটি অনুশীলন করেছিলেন। আমার পরিবারের সদস্যরা এটা পছন্দ করেননি এবং তার কাছ থেকে দূরে ছিলেন। তারা তাকে নাজিস মনে করত এবং তার সমস্ত পাত্র ও জিনিসপত্র আলাদা করে রাখত। খাবার খাওয়ার সময়, তারা সতর্ক ছিল যাতে তার প্লেট এবং গ্লাস দূরত্বে রাখা হয় এবং তাদের নিজস্ব প্লেট এবং গ্লাস স্পর্শ না করে। সেই দরিদ্র মহিলার সেই কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। যাইহোক, তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন এবং আমার যত্ন নিতেন। এমনকি আমি তার খুব কাছের অনুভব করেছি এবং কখনই তার থেকে আলাদা হতে চাইনি। একদিন সে ঘরের কোনো কাজে ঘর থেকে বের হয়।
আমি তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এতটাই ব্যাথা পেয়েছি যে আমি জোরে জোরে কাঁদতে লাগলাম। আমার পরিবারের সদস্যরা খুব বিরক্ত হয়েছিল এবং আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি কান্না থামাইনি। যখন সে ফিরে এসে আমাকে তার বাহুতে নিল তখনই আমি কান্না থামালাম। তার প্রতি আমার আসক্তির কারণেই আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে সরাতে পারেনি।
আমি তার জন্য একই ভালবাসা এবং সংযুক্তি সঙ্গে বড় হয়েছি। আমার বয়স যখন 6-7 বছর তখনও আমি তার সাথেই ছিলাম। তিনি আমার প্রতি খুব সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং আমাকে তার সম্পর্কে বলতে থাকেন।
একদিন সে আমাকে বারো ইমাম (আ.) সম্পর্কে অবহিত করল। তিনি প্রত্যেক ইমাম (আ.)-এর উপর কিছু না কিছু বর্ণনা করেছেন। যখন তিনি দ্বাদশ ইমাম মাহদী (আ.) এর কাছে পৌঁছান, তখন তিনি প্রকাশ করেন, "মনা! আমাদের দ্বাদশ ইমাম ইমাম-ই-জামানা (আ.ফা.) হলেন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর পুত্র)। তিনি বেঁচে আছেন কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশে গাইবাতে চলে গেছেন ।“
আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে গায়েবতে চলে গেছে তার মানে কি?
প্রিয় সোনা! গায়েবাত বলতে আমরা ইমাম-ই-জামানা (আ.) কে আমাদের চোখ দিয়ে দেখতে পারি না বা তাঁকে দেখলে চিনতে পারি না। কিন্তু তিনি আমাদের দেখেন এবং আমাদের প্রত্যেককে চিনতে পারেন।
কিন্তু যদি তাকে দেখা না যায় বা চেনা যায় না এবং গায়েবতে থাকে তাহলে তার অস্তিত্ব থেকে লাভ কি?
“বৎস! আমাদের ইমাম-এ-জামানা (আ.) গায়বাতে থাকা অবস্থায়ও আমাদের সাহায্য করেন। যখন কেউ তাকে সাহায্যের জন্য ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। যদি কেউ তার সাথীদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হারিয়ে যায়। তাঁর পথ এবং এই অসুবিধায় ইমাম-ই-জামানা (আ.) এর কাছে তাঁকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেন, তিনি (ইমাম আ.) অবশ্যই তার সাহায্যে আসেন।“ এমনকি তিনি এমন প্রকৃতির ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
তিনি আমাকে ইমাম-ই-জামানা (আ.ফা.) সম্পর্কে বলেছিলেন ১৭ বছর হয়ে গেছে। আমার বয়স যখন ২৩ বছর, আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সে যুগে হজ করা ছিল খুবই কঠিন কাজ।

আমাদের উটে চড়ে ভ্রমণ করতে হতো এবং আমাদের যাত্রায় বেশ কিছু জঙ্গল ও মাঠের মধ্য দিয়ে যেতে হতো। রাতগুলো ছিল প্রচন্ড ঠান্ডা আর দিনগুলো ছিল প্রচন্ড গরম। হজ্জ যাত্রীদের উপর দস্যু ও জানোয়ারদের আক্রমণ এমনকি তাদের হত্যা করার অনেক ঘটনা আমরা শুনেছি।
তথাপি আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং পথে সকল কষ্ট সহ্য করলাম। আমরা মক্কা ও মদিনার কাছাকাছি ছিলাম। দিনরাত ভ্রমণ আমাকে খুব ক্লান্ত করে তুলেছিল। আমাদের পরিবার থেমে গেছে একটি জায়গায় আর সেখানেই আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম এবং বাতাস খুব সতেজ ছিল। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। যখন আমি জেগে উঠি, আমি নিজেকে সেই জঙ্গলে একা পেয়ে অবাক হয়েছিলাম কারণ আমার পরিবার আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এমনকি আমার উটটিও আমাকে পরিত্যাগ করে মরুভূমিতে চলে গিয়েছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও আমি আমার পরিবার বা উটকে খুঁজে পাইনি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল এবং সূর্যাস্ত আমার উপরে ছিল। আমি ভয় এবং আতঙ্কের কাছে পরাস্ত হয়ে গেলাম। আমি তখন কতটা ভয় পেয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। আমি ভাবতে লাগলাম এখানে আমার কি হবে? আমি খুব তৃষ্ণার্ত, কিন্তু এই মরুভূমিতে আমি জলের কোন চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি না। জানোয়াররা যদি আমাকে আক্রমণ করে, আমি কী করব? আমি খুব বিরক্ত এবং বিভ্রান্ত বোধ করছিলাম।
সব ধরণের অদ্ভুত এবং ভীতিকর চিন্তা আমার মাথায় এসেছিল। আমি হতাশ এবং আশাহীন বোধ করেছি। সেই মরুভূমিতে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আমাকে ভীত করেছিল। আমি ভাবতে লাগলাম যে, আমি যদি এই স্থানে মারা যাই তবে আমি গোসল, কাফন (কাফন) এবং দাফনের উপযুক্ত ব্যবস্থাও পাব না। আমার মৃতদেহ এভাবেই পড়ে থাকবে আর বন্য পশুরা আমার শরীর ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে।
এই ভেবে আমার সারা শরীর শিউরে উঠল। আমি হতাশ হয়ে চারপাশে তাকালাম। যে আমার কথা শুনবে আমি তাকে ডাকলাম, কিন্তু সেই নির্জন মরুভূমিতে কেউ সাহায্যের জন্য আমার কান্নার জবাব দেয়নি।
একাকীত্ব এবং ভয়ের সেই মুহুর্তে, আমার মনে পড়ে গেল যে মহিলার উপদেশ আমাদের ১২ তম ইমাম ইমাম-ই-জামানা (আ.ফা.) গায়বাতে আছেন, তবে তিনি তাদের সাহায্য করেন যারা তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে সফরে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাকে সাহায্যের জন্য ডাকেন। তিনি অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করবেন, তার সমস্ত সমস্যা সমাধান করবেন এবং তাকে তার সঙ্গীদের সাথে পুনরায় মিলিত করবেন।
বিষণ্ণতার সেই মুহুর্তে, এই চিন্তাটি আমাকে সতেজ করেছে এবং আমাকে আশা দিয়েছে। আমি ইতিমধ্যে আমার নেতাদের সাহায্যের জন্য ডাক দিয়েছিলাম কিন্তু সাড়া পাইনি। মনে মনে আমি দ্বাদশ ইমাম ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.)-এর কাছে সাহায্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, কারণ তিনিই ছিলেন আমার শেষ আশা,
ওহ সাহেব উজ জামান! আমাকে সাহায্য করুন! ওহ সাহেব উজ জামান!
"হে আমার প্রভু, আমাকে সাহায্য করুন। আমার নার্স আমাকে আপনার সম্পর্কে জানিয়েছিল। তিনি আপনার উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেছিলেন। আমি খুব কষ্টে আছি, হে আমার মালিক দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন!"
আমি তাকে সাহায্যের জন্য ডাকছিলাম যখন আমি কাঁদছিলাম তখন তার নাম ডাকার সময় আমি কতটা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেছি তা প্রকাশ করতে পারব না। আমি তার নাম পুনরাবৃত্তি করতে থাকলাম এবং একই সাথে কাঁদছিলাম। এরই মধ্যে দেখলাম ঘোড়ার পিঠে চড়ে একজন লোক আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি ভেবেছিলাম যে এটি অন্য দলের একজন হজ্জযাত্রী হতে পারে।
আমি অন্যান্য বিষয়গুলি সম্পর্কেও ভাবতে শুরু করি, যা আমি উল্লেখ করতে পারি না। লোকটি আমার কাছে এলো, সে আমার সাথে আমার নিজের ভাষায় কথা বলল এবং আমার নাম ধরে ডাকল। তিনি আমাকে আমার সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে পুরো পরিস্থিতি খুলে বললাম। অপরিচিত একজন আরব কিন্তু সে আমার ভাষা বুঝতে পারত। অবশেষে আমার কথা শুনে বললেন, আমার সাথে চল।
আমি তাকে অনুসরণ করলাম। তিনি ঘোড়ার পিঠে ছিলেন যখন আমি তার পিছনে হাঁটছিলাম। কিছুক্ষণ পর সে আমার দিকে ফিরে, দূরের দিকে ইশারা করে বলল, ওটা তোমার দল। ওরা তোমার সঙ্গী। আমি আমার সঙ্গীদের সাথে পুনরায় মিলিত হলাম।

এমনকি আমার জিনিসপত্রও উদ্ধার করেছি। আমার সমস্ত একাকীত্ব এবং ভয় অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি সেই মানুষটিকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম। আমি যখন ঘুরলাম, আমি তাকে আর খুঁজে পেলাম না, সে উধাও হয়ে গেছে।
সেই মুহুর্তে আমার সেবিকার কথা মনে পড়ে গেল, যিনি আমাকে দ্বাদশ ইমাম ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.) সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যিনি সর্বদা তাদের পথ হারাদের সাহায্য করেন। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, যে ব্যক্তি আমাকে সাহায্য করেছেন, সে ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.) ছাড়া আর কেউ নয়।
সেদিন শিয়া বিশ্বাসের সত্যতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল। ওই ঘটনার পর আমি শিয়া হয়ে যাই। আমার পরিবার জানে আমি একজন শিয়া। এর আগে তারা আমাকে আমার বিশ্বাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিল এবং আমাকে আবার সুন্নি হতে চেয়েছিল। তারা আমার সাথে কথা বলার জন্য আহলে সুন্নাহের বেশ কয়েকজন সিনিয়র আলেমকে ডেকেছে। তারা সবাই আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি শিয়া ধর্ম ত্যাগ করতে চাইনি। সত্য যখন আমার কাছে এত স্পষ্ট, তখন আমি কীভাবে তা ছেড়ে মিথ্যার দিকে ফিরতে পারি।
"কেন আপনার পরিবারের সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেয় না?" "এর কারণ আমাদের পরিবারে, ধর্মের চেয়ে পারিবারিক ইউনিটের ঐক্য এবং স্থিতিশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে তবে পুরো পরিবার তার বিরুদ্ধে যাবে। তাই আমি শিয়া বিশ্বাস ও অনুশীলনকে প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছি। কোন ভয় ছাড়াই আমি শিয়া বিশ্বাসকে আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছি এবং এতে সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি।"


প্রিয় শিশুরা, তোমরা এই ঘটনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ো। এটা কোনো গল্প নয়, সত্যি ঘটনা। যাইহোক, এই ঘটনা থেকে আপনারা যে বিষয়গুলো শিখেছেন সেগুলো নোট করার চেষ্টা করুন। আপনি নিম্নলিখিত পাঠ শিখেছেন কিনা দেখুন:--
১) আমাদের উচিত সব সময় আমাদের প্রিয় দ্বাদশ ইমাম ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.) কে বিপদে ডাকা।
২) আমাদের অসুবিধা থেকে ভয় পাওয়া উচিত নয়।
৩) আমাদের বন্ধুদেরকে দ্বাদশ ইমাম ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.) সম্পর্কে জানানো উচিত।
এটা সম্ভব যে, আমাদের বন্ধুরা দ্বাদশ ইমাম ইমাম-এ-জামানা (আ.ফা.)-এর কাছে তাদের অসুবিধার জন্য সাহায্য চাইতে পারে এবং এইভাবে শিয়া বিশ্বাসের সত্যতা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া যখন আমাদের প্রিয় ইমাম মাহদী (আ.ফা.) আমাদেরকে এত ভালোবাসেন, তখন আমাদের অবশ্যই তার নিরাপত্তা ও পুনরাবির্ভাবের জন্য দোয়া করতে হবে।

Tuesday, January 25, 2022

Rules & Regulation of the Committee

a) The membership of the Academy will be given to the person who is deemed of 18 years of age by virtue of Law.


b) A person whose behaviour is in conformity with the moral code of Academy. A person who has never been sentenced by court of Law in India or elsewhere.


c) The membership of the Academy can only be granted after approval by the unanimous decision of the members of   Committee specially from the same area. 


d) A person will be ceased from be member of the Academy on the following grounds:-


     i) On death.


     ii) On tendering resignation and its being accepted.


     iii) On being declared mentally sick.


    iv) On being declared insolvent by a court of competent jurisdiction.


    v) On being sentenced by a court of law.


     vi) On the membership being terminated in the meeting by all the members of Academy    .

Registration for Membership (New)

Salamun Alaikum,,,
    All the people of Shia Isna Ashari who are willing to join Anjuman e Naseran e Mahdi atfs under the supervision of "Al-Hujjat (A.) Academy® are asked to complete their Registration for new Membership as per the direction of Maulana Kajim Ali sb (Ashique Hossain), the Director.

সালামুন আলাইকুম,,,
     শিয়া ইশনা আশারীর সমস্ত ভাই যারা "আল-হুজ্জাত (আ:) একাডেমি®"-র তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা "আঞ্জুমান এ নাসিরান এ মাহদী (আঃফাঃ)"  সংগঠনে যোগদান করতে চান, সংগঠন এর পরিচালক মাওলানা কাজিম আলী (আশিক হুসাইন)-এর নির্দেশনা মতে নতুন সদস্যতার জন্য  সদস্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ  করতে বলা হচ্ছে।



Secretary : Moinul Hossain
সম্পাদক : মইনুল হোসেন   

 Joint Secretary : Naki Ali Biswas
যুগ্ম সম্পাদক : নকি আলী বিশ্বাস    

 President : Minhajuddin Mondal
সভাপতি : মিনহাজউদ্দিন মন্ডল    

 Vice - President : Abbas Ali
সহ-সভাপতি : আব্বাস আলী   

 Cashier: Mizanur Hossain
কোষাধ্যক্ষ : মিজানুর হোসেন    

Director : Maulana Kajim Ali (Ashique Hossain)
পরিচালক : মাওলানা কাজিম আলী (আশিক হুসাইন)       

Thank You   ধন্যবাদ

May the Almighty Allah keep you and your family happy and peaceful forever.(Ameen)
মহান শক্তিধর আল্লাহ আপনার এবং আপনার পরিবারকে সর্বদা সুখ এবং শান্তিতে রাখুন। (আমিন)


আব্দুল আলী

                  পিতা :  ফজর আলী                  বাসস্থান : হরিপুর, উত্তর ২৪ পরগণা                   পরিচিতি : বিশিষ্ঠ কবি